
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের পরিচালক শিব্বির আহমেদ ওসমান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে শোকের আবহে সংঘটিত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। এক বিবৃতিতে শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন, ওসমান হাদির মৃত্যু কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মী বা সংগঠকের বিদায় নয়, এটি একটি স্বপ্নের আকস্মিক থেমে যাওয়া, একটি সংগ্রামের অসমাপ্ত অধ্যায়, একটি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের পথচলার মাঝে গভীর শূন্যতা।
বিবৃতিতে শিব্বির আহমেদ ওসমান উল্লেখ করেন,শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন সাহসী অকুতোভয় দেশপ্রেমিক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ ছিল দৃঢ় ও আপসহীন। ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে কথা বলার যে সাহস তিনি দেখিয়েছেন, তা তরুণ প্রজন্মের জন্য ছিল অনুপ্রেরণা। তিনি এমন এক বাংলাদেশ কল্পনা করতেন, যেখানে রাষ্ট্র হবে কল্যাণমুখী, যেখানে নাগরিকের অধিকার থাকবে সুরক্ষিত, যেখানে গণতন্ত্র হবে প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াইয়ে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তার এই আত্মনিবেদন ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন, ওসমান হাদির মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হবার নয়। কারণ তিনি কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি ধারার প্রতিনিধিত্বকারী, একটি চিন্তার বাহক। তার কণ্ঠে যে ভাষা ছিল, তা ছিল নিপীড়িত মানুষের ভাষা। তার উচ্চারণে যে দৃঢ়তা ছিল, তা ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জমে ওঠা প্রতিবাদের প্রতিফলন। আজ সেই কণ্ঠ থেমে যাওয়ায় জাতি একজন সাহসী যোদ্ধাকে হারাল।
সাংবাদিক নেতা শিব্বির আহমেদ ওসমান আরও বলেন, ওসমান হাদি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, দল মত ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব। তার রাজনীতি ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক, তার চিন্তা ছিল বিভাজনের ঊর্ধ্বে। তাই আজ তার অনুপস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই জারি রাখতে হবে।
বিবৃতিতে শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন, আমি শরিফ ওসমান হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে তাদের ধৈর্য ও শক্তি কামনা করছি। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি জানান, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়।
শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন, হত্যাকারীরা যদি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে সেই দায় অবশ্যই অন্তর্বর্তী সরকারকে নিতে হবে। শুধু দায় স্বীকার করলেই চলবে না, দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি একটি রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। আজ যদি একজন রাজনৈতিক কর্মী হত্যার বিচার না হয়, কাল সেই একই অন্ধকার গ্রাস করবে সাধারণ নাগরিককেও।
ওসমান হাদির মৃত্যুর পর প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং উদীচীতে সংঘটিত ন্যাক্কারজনক বর্বরতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শোকের নামে, প্রতিবাদের নামে সহিংসতা কখনোই ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। ওসমান হাদির লড়াই ছিল একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। তার আদর্শ কখনোই ধ্বংস, ভাঙচুর বা সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না। বরং তিনি বিশ্বাস করতেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, যুক্তিনির্ভর রাজনীতি এবং জনগণের রায়ের মধ্য দিয়েই পরিবর্তন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদি একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পক্ষে সংগ্রাম করেছেন। তার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন। তাই তার নাম ব্যবহার করে সহিংসতা চালানো তার আত্মার প্রতিই অবমাননা। যারা এই সুযোগে গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বা নাগরিক পরিসরে হামলা চালিয়েছে, তারা আসলে ওসমান হাদির আদর্শের বিরোধিতা করেছে।
শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন, যারা মব উস্কে দিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে, তাদের দুরভিসন্ধি আমাদের বুঝতে হবে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা চায় দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। তারা চায় প্রতিবাদের ভাষাকে সহিংসতার সঙ্গে এক করে দেখাতে। এই ফাঁদে পা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো জাতি।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ওসমান হাদির অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে হলে আমাদের শান্ত থাকতে হবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে। আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো ধরনের ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। আমাদের লড়াই হতে হবে নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান, যুক্তিতে দৃঢ় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অবিচল।
বিবৃতির শেষাংশে শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন, আজকের বাংলাদেশ একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে রয়েছে স্বপ্ন দেখার সাহস, অন্যদিকে রয়েছে সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয়ার গভীর চক্রান্ত। ওসমান হাদির জীবন ও মৃত্যু আমাদের শেখায়, ভয় নয় বরং সাহসই ইতিহাস বদলায়। তার আদর্শকে ধারণ করে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, যদি আমরা সহিংসতার পথ পরিহার করে ন্যায় ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাই, তবে তার আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।
তিনি বলেন, শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে, প্রতিবাদকে গঠনমূলক পথে পরিচালিত করতে হবে। তবেই একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন একদিন বাস্তব হবে। ওসমান হাদির রক্তের দায় শুধু হত্যাকারীদের নয়, এই রাষ্ট্রের প্রতিটি বিবেকবান নাগরিকের। এই দায় থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের সবাইকে সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩