মোঃ শফিকুল ইসলাম
রংপুর বিভাগীয় প্রধানঃ

রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলাধীন বহুল আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার স্ত্রী সুর্বণা রায় (৬০) দম্পতিকে নিজ বাড়িতে ক্লুলেস হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ মূলে অভিযুক্ত ১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ভোরে রংপুর জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম তারাগঞ্জ থানাধীন আলমপুর ইউনিয়নের শেরমস্ত বালাপাড়া গ্রামে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে আসামি মোরসালিন কে গ্রেপ্তার করেন।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটি উদ্ধার করা হয়।
রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন
গ্ৰেফতারকৃত আসামির বরাত দিয়ে জানান,
মোরসালিন ইসলাম (১৯) রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানাধীন শেরমস্ত গ্রামের রুহুল আমিন এর ছেলে।
মোরসালিন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ও টাইলস মিস্ত্রি কাজ করেন পাশাপাশি তারাগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্নাতক শ্রেণীতে লেখাপড়া করেন। হত্যার দুই দিন আগে সে যোগেশ চন্দ্রের বাড়িতে টাইলস লাগানোর কাজ করেছেন বলে অভিযোগ স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য যে, শনিবার ৬ ডিসেম্বর রাতে কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর (খিয়ারপাড়া) গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে হত্যা করা হয়।
পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে তাঁদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার অগ্রগতি হিসেবে পুলিশ এ পর্যন্ত ১ জনকে গ্রেফতার করল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোরছালিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্রের বাড়ীতে কাজ করাকালে জানতে পারি বাড়িতে তিনি ও তার স্ত্রী ছাড়া ছাড়া আর কেউ থাকেন না।
বাড়ীতে অনেক টাকা, স্বর্ণালঙ্কার থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
আসামী মোরসালিন বলেন, আমি দরিদ্র এবং আমার ব্যক্তিগত কিছু দেনা থাকায় সে তাদেরকে হত্যা করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করার পরিকল্পনা করে। সুযোগ বুঝে ৬ ডিসেম্বর রাতে
যোগেশ চন্দ্রের আঙ্গিনায় থাকা আমগাছ বেয়ে বাড়ীতে ঢুকে প্রথমে সুবর্ণা রানীকে তাদের বসতবাড়ির রান্না ঘরে এরপর যোগেশ চন্দ্র রায়কে ডাইনিং রুমে চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় কুড়াল দিয়া মাথায় উপর্যুপরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পরে শয়ন ঘরের টেবিলের নিচে থাকা ধারালো ছোরা দ্বারা স্টিলের আলমারীর লক ভেঙে টাকা-পয়সা, সোনাদানা খোঁজ করে। কিন্তু কোন কিছু না পেয়ে ছোরাটি ঘরের মেঝেতে রেখে একই পথে বাড়ীর বাহির হয়ে বাড়ির পিছনে থাকা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটি জনৈক পরেশ চন্দ্রের কুচুরীপানাযুক্ত পুকুরে ফেলে চলে যায়। গ্রেফতারের পর মোরছালিনকে সাথে নিয়ে তার দেয়া তথ্য মতে পুলিশ শুক্রবার যোগেশ চন্দ্রের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটি উদ্ধার করেছে।
নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসরে যান। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় ছোট ছেলে রাজেশ চন্দ্র রায় তারা দুজনেই পুলিশে চাকরি করেন।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩