

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যু যেন পুরো গ্রামকে থামিয়ে দিয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নেককিড়ি কবরস্থানসংলগ্ন মাঠে তার জানাজায় মানুষের ঢল দেখা যায়। হাজারো মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, চারদিকে শুধু শোক আর নিস্তব্ধতা।
মসজিদের মাইকে ঘোষণা হওয়া—রাকিব উদ্দীনের শিশু সন্তন সাজিদ আর নেই—এই এক বাক্যেই গ্রামজুড়ে সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। দোকানপাট খোলেনি, মাঠে কেউ যায়নি, সবাই ছুটে গেছে শিশুটির শেষ দেখা দেখতে। যার মুখ সবসময় হাসত, সেই মুখ আজ নিস্তব্ধ।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস শিশুটির মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেয়। গভীর নলকূপে আটকা পড়ার পর টানা ৩২ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাত ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে আর বাঁচাতে পারেননি।
ভোর থেকেই জানাজার মাঠে শোকের ভারী আবহ। বয়স্ক মানুষ, তরুণ, স্কুলপড়ুয়া—সবার চোখে একই রকম পানি। তারা বলছিল, এমন মৃত্যু আর যেন কারও ঘরে না নামে। সাদা কাপড়ে মোড়ানো সাজিদের ছোট্ট দেহ আনার পর কান্নার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। মায়ের আহাজারিতে মুহূর্তে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
জানাজার নামাজ পড়ান কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান। দোয়ার সময় হাজারো হাত একসঙ্গে উঠেছে—সাজিদের মাগফিরাতের জন্য, আর শোকাহত পরিবারকে শক্তি দেওয়ার জন্য।
জানাজার পর ছোট্ট কফিনটি যখন কবরের দিকে এগোয়, নেমে আসে গভীর নীরবতা। স্বজনেরা আবারও ভেঙে পড়েন কান্নায়। স্থানীয়দের ভাষায়, এত মানুষের শিশু জানাজায় অংশ নেওয়ার ঘটনা তারা আগে দেখেননি—এটা ছিল জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দৃশ্য।
মাত্র দুই বছরের সাজিদের মৃত্যু যে শোক রেখে গেল, তা থেকে বেরোতে সময় লাগবে পুরো গ্রামের।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
WhatsApp +44 7574 879654 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩