শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তরুণ সাংবাদিকের নির্মম হত্যা: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর তীব্র নিন্দা ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি। রিয়াদে প্রবাসী বগুড়া জেলা বিএনপির ঈদ পূর্ণমিলন ও ঐতিহ্যবাহী আলু ঘাটির ভোজন মেলা অনুষ্ঠিত; ধরুন্দ ও ইউনুছপুরের ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, বাঁশখালীতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত, শান্তিগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: ঈদের আনন্দ মাটি, প্রাণ গেল দুই বন্ধুর ঈদের আনন্দে নানার বাড়ির পথে, মাঝনদীতে ঝরে গেল শিশু সুফিয়ার প্রাণ, তাহিরপুরে খেয়া নৌকা ডুবি—অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ, এলাকায় শোকের মাতম, বগুড়ায় সাংবাদিকের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা: ঢাকা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। খুলনার ডুমুরিয়ায় ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, লাঞ্ছনার অভিযোগে প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভা; বদলগাছীর মিঠাপুর ইউনিয়ন বাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ফিরোজ হোসেন তাহিরপুর সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ৩ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি,
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

কোকদন্ডী সমবায় ও ক্ষণদান সমিতির সঙ্গে শোভা রাণী ধরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি — সরেজমিন তদন্তে এলাকার মানুষের বক্তব্য

প্রতিবেদকের নাম / ৬৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কোকদন্ডী এলাকায় পরিচালিত কোকদন্ডী সমবায় ও ক্ষণদান কর্মসূচী সমিতিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের পর সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়েছে এই প্রতিবেদক।

তদন্তে স্থানীয় বাসিন্দা, সমিতির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—নারী উদ্যোক্তা শোভা রাণী ধর–এর সঙ্গে সমিতির কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
সরেজমিন অনুসন্ধানে যা বেরিয়ে আসে:
স্থানীয় কয়েকজন সমিতির সদস্য ও সাধারণ মানুষ জানান, সমিতির কর্মকাণ্ড বা কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শোভা রাণী ধর কখনোই যুক্ত ছিলেন না।

একজন প্রৌঢ় সদস্য বলেন—
“আমরা বহু বছর ধরে সমিতির সঙ্গে আছি। শোভা রাণী ধর এই সমিতির কোনো সভা, কার্যক্রম বা লেনদেনে কখনো অংশগ্রহণ করেননি।
আরেকজন স্থানীয় নারী সদস্য জানান—
“সমিতির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কারও নাম যুক্ত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শোভা রাণী ধরের সঙ্গে এই সমিতির কোনো সম্পর্ক নেই—এটা আমরা নিশ্চিত।”

সমিতির বর্তমান কমিটির তথ্য
সরেজমিনে দেখা যায়, সমিতির বর্তমান কমিটি হলো—
সভাপতি: স্বপন শীল
সহ–সভাপতি: বসুদেব রুদ্র
অর্থ–সম্পাদক: সঞ্জয় মজুমদার
এ ছাড়া সমিতির প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান কর্মকর্তা ফাল্গুনী দাশ।
এই কর্মকর্তাদের দায়িত্বকালীন নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, কোনো স্তরেই শোভা রাণী ধরের নাম নেই।
একজন সদস্য বলেন—
“বিগত কমিটিতেও তিনি ছিলেন না, বর্তমান কমিটিতেও নেই।”
অপপ্রচারের অভিযোগ মিলেছে এলাকাবাসীর মুখেও। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সমিতির কিছু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইচ্ছাকৃতভাবে শোভা রাণী ধরের নাম জড়িয়ে প্রচার করা হয়েছে।

একজন এলাকাবাসী বলেন—
“সমিতির অভ্যন্তরীণ কিছু বিরোধ আছে, কিন্তু শোভা রাণীর সেটির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

আরেকজন সদস্য জানান—
“কিছু পক্ষ নিজেদের দ্বন্দ্ব আড়াল করতে ভিন্নমুখী অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে আমরা মনে করি।”
সরেজমিনে একাধিক ব্যক্তি জানান, এর আগে নারী উন্নয়ন–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে ভুলভাবে শোভা রাণী ধরের নাম যুক্ত হয়েছিল, যা পরবর্তী অনুসন্ধানে অসত্য প্রমাণিত হয়।
তারা মনে করেন, আগের ঘটনার ধারাবাহিকতায় আবারও তাঁর নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শোভা রাণী ধর বলেন—
“আমি কোনো সমবায় সমিতির সঙ্গে যুক্ত নই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি চাই সত্য প্রকাশ পাক, এবং যারা অপপ্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হোক।”
তিনি আরও বলেন—
“এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণা একজন নারীর সামাজিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহায়তা চাই।”

তথ্য যাচাইয়ে সমিতির কর্মকর্তারা যা বললেন: সমিতির সভাপতি স্বপন শীল এবং সহ-সভাপতি বসুদেব রুদ্র বলেন—
“শোভা রাণী ধরের সঙ্গে আমাদের সমিতির কোনো সম্পর্ক নেই। যেকোনো ব্যক্তি চাইলে অফিসিয়াল নথি দেখে নিশ্চিত হতে পারবেন।”
সমিতির প্রধান কর্মকর্তা ফাল্গুনী দাশও একই বক্তব্য দেন—
“সমিতির সদস্য তালিকা ও কার্যক্রমে তাঁর নাম নেই। যে অপপ্রচার চলছে, তা আমাদেরও বিব্রত করছে।”
সরেজমিন তদন্ত, নথি যাচাই এবং স্থানীয়দের বক্তব্যে শোভা রাণী ধরের সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বরং অপপ্রচারের অভিযোগই বেশি উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি—সমিতি–সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ বা অনিয়মের দায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির; সেখানে বাইরের কোনো ব্যক্তিকে জড়ানো অযৌক্তিক এবং বিভ্রান্তিকর।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর